apodarthosamaresh

সামান্য লেখার চেষ্টা

Grid View
List View
Reposts
  • apodarthosamaresh 30w

    শেষ লাইন

    নদীর উপর জল, আর জলের ওপর আকাশ,
    যাচ্ছি দুরে ক্রমে সরে, দুরের থেকেই তাকাস।
    ভেজা চোখ লুকিয়ে আছে চশমার কালো কাচে,
    নালিশ জমে আছে, আমার প্রিয়তমার কাছে।
    জমেই গেলো অনেক কথা, র‌ইলো বলা বাকি,
    দুর থেকে আড়াল করেই, আমরা দিলাম ফাঁকি!
    পুর্নিমাতে নদীর জলে উঠছে ভীষণ ঢেউ,
    যার জন্য মন ভারী, সে যে অনেক দুরের কেউ।
    নদীর পাড়ে জোড়া শালিক, বিকেল বেলার হাওয়া,
    হাটতে হাটতে আলগোছে হঠাৎই হাত ছোয়া।
    জমা খরচ নাম মাত্রই, আর সব‌ই বাকি আছে,
    কষ্ট জমে আছে, আমার প্রিয়তমার কাছে।
    ফিরতি পাখির দল, তাকে গোপন কথা বল,
    মনেই থাক ভালোবাসা, আমরা পিছু হাটি চল।
    পিছে হেটেই শান্তি যখন, রাস্তা জুড়ে কাটা,
    কষ্ট নিয়েই কাটুক নাহয়, বোকা জীবন সাদামাটা।
    নোনা হাওয়া লাগছে গায়ে, দেখো সমুদ্দুরের ঢেউ,
    নিজের মতোই থাকুক ভালো, অনেক দুরের কেউ।
    মরীচিকা আর না দেখি, যদি মিছে কষ্ট পাই পাছে,
    নালিশ জমা আছে, আমার প্রিয়তমার কাছে।

    ©অপদার্থ সমরেশ

  • apodarthosamaresh 30w

    অগোছালো

    তোমার চোখের তারায় বোনা বিষন্নতার বারন,
    আকাশ জুড়ে কালো মেঘের অন‍্যতম কারন।
    তোমার জন্য বোকা মনে প্রেমেরা অবিচল,
    নতুন নতুন গল্প লিখে ভাষার শব্দ কোলাহল।

    দিনের শেষে ভাবনা এসে মনের সুতোয় টান,
    রোজ‌ই প্রেমের কাব‍্য লেখে আমার বোকা প্রাণ।
    ঘুমের ঘরে অন্ধকারে তোমায় ভাবছি অবিরত,
    ক্রমে ক্রমে দুরত্ব খুব তাই বাড়ছে মনের ক্ষত।

    তোমার চোখে ঘুম এলেই আমার‌ও ওঠে হাই,
    সকালে দেখে তোমার চোখে দিনের শুরু হয়।
    গল্প ব‌ইয়ের পাতায় পাতায় তোমার ভাবনা ঘোরে,
    তোমার জন‍্য‌ই মেঘপরীরা আমার ছাদে ওড়ে।

    বৃষ্টি এলেই জানলা দিয়ে বাইরে করি হাত,
    ছুয়ে দিও হাত দুখানি সাক্ষী থাকুক মেঘের রাত।
    মেঘের থেকে আড়াল করে দেখুক চাঁদের বুড়ি,
    তোমায় নিয়ে গোপন কাব্য আমি কেমন গড়ি।

    লোডশেডিং-এ মোমবাতিতে আলোয় ভরুক ঘর,
    প্রেমের পারদ উঠুক নামুক, ঘুম হয়ে যাক পর।
    স্বপ্ন সবার হোকনা সত‍্যি, উড়ুক খুশির ফানুস,
    তোমার জন্য অপেক্ষাতে বোকা-সোকা অগোছালো মানুষ।

    ©অপদার্থ সমরেশ

  • apodarthosamaresh 31w

    মাংসে আলু

    খুব ছোটোবেলায় দেখতাম মা মাংস রান্না করার সময় তাতে বেশ পরিমাণে আলু দিতো।
    তো যেহেতু ছোটো ছিলাম তাই ভাবতাম যে বোধহয় আলু দিলে মাংসে টেস্ট বেশি হয়। আর খেতাম‌ও ভালোই যেটা সত‍্যি কথা।
    এরপর ধীরে ধীরে বড় হলাম, বাবার ইনকাম আগের তুলনায় একটু বৃদ্ধি পেলো। আর আমার‌ও মুখের স্বাদ বদলাতে শুরু করলো।
    আবার অন‍্যদিকে আমি দুপাতা পড়াশোনা করে বিভিন্ন সোর্স থেকে জানতে পারলাম যে মাংসের সাথে আলু খাওয়া নাকি ক্ষতিকর।
    যথারীতি আমিও মাকে বলে দিলাম যে মা মাংসে আর আলু দিওনা, শুধু মাংস টাই রান্না কোরো। আর ছেলে অন্তপ্রাণ মা করতো‌ও তাই।
    এরপর পেরিয়ে গেছে বহুদিন। বাবার‌ও বয়স হয়েছে সাথে মায়ের‌ও। দুজনেই হয়ে পড়েছেন ওষুধ নির্ভর।
    বিবাহিত দাদাও কালের নিয়মে আলাদা হাড়ির ব‍্যবস্থা করে ফেললো।
    ক্রমে ক্রমে আমাদের সংসারের দায়িত্ব‌ও সম্পূর্ণ রূপে এসে পড়লো আমার ওপর। আর "ইতিহাস ফিরে আসার মতোই" এখন মাংসের সাথে আমিই সবচেয়ে বেশি আলু খাই....
    ©apodarthosamaresh

  • apodarthosamaresh 31w

    এমন কোনো পুজোর দিনে, তোমার জন্য ভরসা কিনে, গুটি পায়ে হাটবো সারারাত,
    দুর্গা মায়ের লক্ষ্মী মেয়ে, অন্ধকারে ছায়া হয়ে, এসো রাখবো ধরে হাত....

    ©অপদার্থ সমরেশ

  • apodarthosamaresh 31w

    এমন কোনো পুজোর দিনে, তোমার জন্য ভরসা কিনে, গুটি পায়ে হাটবো সারারাত,
    দুর্গা মায়ের লক্ষ্মী মেয়ে, অন্ধকারে তোমার ছায়া হয়ে, এসো রাখবো ধরে হাত....

    ©অপদার্থ সমরেশ

  • apodarthosamaresh 31w

    পুজোর কীর্তি

    মা!
    আজকেও না সকালে খাওয়া জুটিনি জানো তো।

    পাড়ায় পাড়ায় দেখলাম প‍্যান্ডেল হয়চে, মাইকি গান বাজচে, বড় বড় লাইট লাইগেচে। দেখে বুঝলাম পুজো এসিচে, দুর্গা পুজো।
    দেখলাম ওই শপিং মাল না কি বলে, ওগুলোর সামনে কত ভীড়, কত গাড়ি দেয়ড়ে রয়চে।
    আমার জামাটাও জানো ছিড়ে গেছে মা। এক জামায় কি সারাবছর চলে?
    সেই ভাইরাস আসার আগে বাবুরা এসি একখান জামা আর একখান প‍্যান্ট দিই গিছিলো। তা আর পড়ার মতো নেই। তুমি থাকলি আমার একখান নতুন জামা-জুতো হতো।

    ইট্টু আগে দেখলাম আমার সাইজির এট্টা ছেলি নতুন জামা হাতে নে তার মায়ের সাথে যাচ্চে। আমি দুটাকা চেইলাম, বলিলাম সকালতে খাইনি মাসি। তা আমার দুর-দুর করি তায়রে দেলে।

    তুমি থাকলি কি আমার এই তাড়া ডা খেতি হতো মা? তুমি ক‍্যান আমার একা রেখি চলি গেলে? আমার নেযাত পারলে না?

    তুমি বেঁচি থাকতি যখন ইস্কুলি যেতাম তখন একবার ছাড়ের মুখি গল্প শুনিলাম আগে নাকি সতীদাহ প্রথা চালু ছিলো। একন যদি ওরম ভাবে তোমার বডির সাথে আমারেও পুইড়ে দিতো তালি আমার আর এত কষ্ট করতি হতোনা।

    এই ভাবে রোজ রোজ না খেয়ি কি থাকা যায়? ছোটো বলি কেউ কাজেও নেইনা।
    আর এই ভাইরাস আসার পরেততে বাবুরাও আগের মতো আর ডেকেডুকে খাওয়ায় না।

    আমি যে ফুটপাতে ঘুমায় পুজোর কদিন ওকেন দেও লোক হাটে বলি ঘুমোতিও পারিনে। হ‍্যা তবে লোকে অনেক খাবার ফেলি দেয় বলে পুজোর কদিন খাওয়াডা ভালো হয়। তাও তো আগের বার রাস্তারতে খাবার খাতি গিয়ে কুকুরির কামর খেইলাম কাড়াকাড়ি করতি গে।

    শুনিচি লোকে মরলি নাকি ঠাকুরের কাছে চলি যায়।
    ও মা তা তুমি মা দুর্গার বলতি পারোনা আমারে ইট্টু ভালো রাখতি।
    মা দুর্গার পাঁচ দিনির জন্য কত্ত বড়বড় প‍্যান্ডেল বানাই। আর আমি, তুমি মড়ার পরেরতে সেই যে মামা ঘরেরতে বের করে দিলো, সেই দিনিরতে রাস্তায়।

    ও মা তুমি ইট্টু বলে দিও দুর্গা মারে সে জানো আমারে এট্টা থাকার ঘর আর এট্টা কাজ ঠিক করি দেয় যাতে খাতি পারি.... বোলো কিন্তু মা...

    ©অপদার্থ সমরেশ

  • apodarthosamaresh 36w

    মন খারাপের বৃষ্টি দিনে, গান বাজিয়ে মুঠো ফোনে,
    মাথায় নরম বালিশ,
    ছোট্ট ছোট্ট কষ্ট কথা, বুকের বাঁদিক অল্প ব‍্যাথা,
    বেনামে পাঠাই নালিশ।
    চার দেওয়ালের পলেস্তারায়, চুপিসারে স্বপ্ন জমায়,
    একে একে খানিক পুরন করি,
    গল্প জোড়া ব‌ইয়ের পাতা, ভেঙে যাওয়া পুরোনো ছাতা,
    এরাই খারাপ-ভালোয় সহচরী।
    রাস্তা জুড়ে পাথর ভরা, পথ চলতে দেয়না তারা,
    তাই উড়তে শেখা দায়,
    উড়তে উড়তে পৌঁছে যাবো, স্বপ্ন তোমায় ছুঁয়ে নেবো,
    বেনামে তোমাকে জানাই।।

    ©অপদার্থ সমরেশ

  • apodarthosamaresh 36w

    খামখেয়ালে

    অল্প কথায় জব্দ, তোর না বলা শব্দ, খুঁজতে ভীষণ ভয়,
    মেঘ সকালের হাওয়া, জানলা খুলে চাওয়া, রোদের আলো চাই।
    আলগা রাতের মায়ায়, ইচ্ছে জেগে যায়, আঙুলে বুনি ভালোবাসা,
    কঠিন বাস্তবতায়, নিজের গল্প পাতায়, গোপনে চাষার আশা।
    এলোমেলো দিনযাপন, কথারা একা গোপন, প্রকাশ‍ পেতে চাই,
    জামার হাতায় ময়লার ছোপ, তোমার কামান তোপ, ভাঙে হৃদয়।
    গল্প জমে ইতিহাস, ইচ্ছে পারদ ছুঁলো মহাকাশ, নড়বড়ে তাসের ঘর বানাই,
    বাগান জোড়া জোনাকি, বলো আমায় চেনো কি? নাকি চিনতে ভয়?
    বন্ধ দেওয়ালে কাটছে দিন, রাত ভোর সমীচীন, মুঠোফোনে বন্ধু পাতায়,
    তোমায় নিয়েই বারোমাস, গল্প পাতি একরাশ, দুপুর রোদে এক ছাতায়।
    জামার ছেড়া বোতাম, যদি তোমার সেলাই পেতাম, সিলিয়ে নিতাম,
    পেলে তোমার চেরা চোখে চাহনি, আমার কুড়ে ঘরে ছাউনি, দিয়ে দিতাম....

    ©অপদার্থ সমরেশ

  • apodarthosamaresh 36w

    আলগা জীবন রুটিন ছাড়াই কাটছে ঘরের কোণে,
    অনেক ইচ্ছে, আবেগ বন্দী এখন সস্তা মুঠো ফোনে।
    শহর জোড়া আলোর ভিড়ে কালো অন্ধকারের খোঁজ,
    ভালো থাকার রকম-সকম সেল্ফি ক‍্যামেরায় পোজ।
    কলম গোজা ব‌ইয়ের ভাজে হারিয়ে যাওয়া প্রথম প্রেমের চিঠি,
    ছোটোবেলার বন্ধু অনেক হঠাৎ ক‍রেই রঙিন গিরগিটি।
    রাত জাগানো গল্প পাতা খুঁজে পেতে ফেলু দাদার বাড়ি,
    ফিরে আসুক ছেলেবেলা, বড়বেলা তোমার সাথে আড়ি।

    ©অপদার্থ সমরেশ

  • apodarthosamaresh 37w

    মাতাল কোনো বৃষ্টি দিনে, অল্প দামে ছাতা কিনে, ঢাকবো তোমার চুল।
    মাটি ডাবিয়ে পা ফেলে, কাদায় ভরা রাস্তা জলে, ভাঙলো দিঘীর কুল।
    তোমার চোখের চাহনি ভিজে, গলছে বরফ মন ফ্রিজে, ভাবনা সমুদ্দুর।
    চাটাই বালিশ সঙ্গে নিয়ে, তোমার শহর হাঁটছি প্রিয়ে, আমার শহর বন‍্যায় ভাঙচুর।

    ©অপদার্থ সমরেশ